April 19, 2026, 11:49 pm

ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা; বাড়িতে থাকতে ভয় পাচ্ছে শিশুটি!

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পশ্চিম ঝিনাইদহ (ছোট ঝিনাইদহ) গ্রামের ৬ষ্ট শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিজ বাড়িতে ধর্ষণ প্রচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই গ্রামের হুরমতের ছেলে করিম রাতে ঘরে উঠে শিশুটিকে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। শিশুটির মায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে করিম তার মেয়েকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ১৮ আগষ্ট ঝিনাইদহ শহরে তার মায়ের ডিউটি থাকার সুযোগ নেয় করিম। পিতা মানসিক প্রতিবন্ধি। ঘটনার দিন রাতে বাড়িতে ছিল দুই ছেলে মেয়ে ও প্রতিবন্ধী স্বামী। এই সুযোগে ঘরে উঠে ঐ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালাই লম্পট করিম। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, সন্ধ্যাবেলা করিম তার বাবা-ভাইয়ের জন্য মিষ্টি দেয় খেতে। সেই মিষ্টি খেয়ে বেঘোরে ঘুমিয়ে পড়ে তারা। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে করিম ঘরে ওঠে। ঠিক পেয়ে শিশুটি তার বাবাকে অনেক ডাকা-ডাকি করেও জাগাতে পারছিল না। পরে জোরে কান্নাকাটি শুরু করলে বাবা ও পাড়ার অন্য লোক ছুটে এলে পালিয়ে যায় করিম। শিশুটি জানায়, ওই রাতে ভয়ে তারা বাড়ির পাশের একটি দোকানে রাত কাটিয়েছে। ঐ শিশুটির মা জানায়, এর আগেও করিম তার মেয়ের যৌন হেনস্তা করেছে। আমি তাকে সাবধানও করেছি। তার পরেও গত বুধবার আমি বাড়িতে না থাকায় আবার সে আমার মেয়েকে ধর্ষন চেষ্টা চালায়। ওই গৃহবধু আরা জানান, আমার স্বামী কাজ করতে পারেনা। আমি উপার্জন করে সংসার চালায়। মেয়েকে একা বাড়িতে রেখে কাজেও যেতে পারছি না। আমি এর বিচার চায়। এই বিষয়ে বেতাই-চন্ডিপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সিরাজুল করিম বলেন, আমি ছুটিতে আছি। এই বিষয়ে কিছুই জানিনা। একই ক্যাম্পের এএসআই খোরশেদ বলেন, আমি ঘটনা আগে শুনিনি। এখনই খোঁজ নিতে যাচ্ছি। এদিকে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ভিকটিমের বাড়িতে গেলে মেয়ের মা ও মেয়ে বর্ননা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ স্থানীয় কিছু মাতব্বর এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও পশ্চিম ঝিনাইদহ গ্রামে এক প্রতিবন্ধীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে এক কবিরাজ। কিন্তু সে ঘটনায় কথিত গ্রাম্য মাতুব্বররা মামলা করতে দেয়নি। ধর্ষকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা আদায় করে ধর্ষিতাকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা খেয়ে ফেলে বলে এলাকায় কথিত আছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা